বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের বিদায়ের পর কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণভাবে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। কাউন্টি ক্রিকেটে এটাই তার প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি।
কেন্টের মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে ১২তম ওভারে প্রথমবার বল হাতে নেন খালেদ। শুরু থেকেই ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। প্রথম তিন ওভারে কোনো রান দেননি তিনি। নিজের প্রথম স্পেলে ৬ ওভারে খরচ করেন মাত্র ৯ রান, যদিও তখন কোনো উইকেট পাননি।
লাঞ্চের পরই আসে সাফল্য। নিজের অষ্টম ও ইনিংসের ৩১তম ওভারে কিটন জেনিংসকে পয়েন্টে ক্যাচ বানিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন খালেদ। পরের ওভারেই রিকি ফ্লিনটফকে দুর্দান্ত বলে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি।
এরপর আবার অপেক্ষা করতে হয় তাকে। ইনিংসের ৫৩তম ওভারে আউটসুইংয়ে উইকেটকিপার-ব্যাটার ম্যাটি হার্স্টকে স্লিপে ক্যাচে পরিণত করেন খালেদ। ৩৭ রান করা হার্স্টকে ফেরানোর পর তার শিকারসংখ্যা দাঁড়ায় তিনে।
অন্য প্রান্তে দারুণ বোলিং করছিলেন ম্যাট মিলনে। ল্যাঙ্কাশায়ারের ১৬০ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার সময় মিলনের শিকার ছিল চারটি। খালেদের নামের পাশে তখন তিন উইকেট।
এরপর শেষ ধাক্কাটিও দেন খালেদ। নিজের ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলে অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত ডেলিভারিতে মিচেল স্ট্যানলির মিডল স্টাম্প উপড়ে দেন তিনি। সেই উইকেটের পর ক্রিজে আসেন শেষ ব্যাটার জেমস অ্যান্ডারসন।
অ্যান্ডারসনকে কোনো সুযোগই দেননি খালেদ। পরের বলেই স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। ফলে তার বোলিং নৈপুণ্যে মাত্র ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রথম ইনিংস।
জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে কাউন্টির আরেকটি ম্যাচ বাকি থাকতেই ফিরে এসেছেন হাসান মাহমুদ। তার অনুপস্থিতিতে প্রথম ইনিংসে সেই অভাব বুঝতে দেননি খালেদ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলিংয়ে দলের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রায় ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার।
কাউন্টি ক্রিকেটে এটিই খালেদের প্রথম পাঁচ উইকেট। এর আগে কেন্টের হয়ে হাসান মাহমুদও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন। আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খালেদের এটি ১০ম পাঁচ উইকেটের শিকার।

