বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর নতুন করে হুমকি দিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি পক্ষ। মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতের কেউ তাদের কথা না শুনলে কিংবা অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করলে পরবর্তী নিশানা হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। তবে এই হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মুম্বাই পুলিশ।
হিন্দুস্তান টাইমস অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে অনিল পণ্ডিত দাবি করেন, তিনি ও হারমান সান্ধু মিলে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দায় নিচ্ছেন। পোস্টে বলা হয়, আগে ফোন করে অভিনেতাকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই সতর্কবার্তা শোনেননি বলে দাবি করে তাকে শিক্ষা দেয়ারকথা বলা হয়। ওই পোস্টে আরও হুমকি দেওয়া হয়, মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতের যারা তাদের কথা শুনবেন না কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাদের পরিণতিও একই হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে করা এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে ফেরার পথে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তিন অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পুষ্পা পার্কের কাছে অভিনেতা তার বিএমডব্লিউ গাড়িতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে সময়ই গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় টাইগারের গাড়িচালক ফিরদৌসসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে অভিনেতা নিজে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়া হয়নি।
ঘটনার পর পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকা ঘিরে রেখে হামলাকারীদের খুঁজতে তল্লাশি শুরু হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল সংগ্রহ করেন ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে জুহুতে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়ির বাইরে গুলির ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে মুম্বাইয়ে গুলিতে নিহত হন রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকি। একের পর এক ঘটনায় বলিউডে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পেছনের উদ্দেশ্য কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

