সুপ্রভাত ঢাকা

স্যান্ডপেপার গেট কেলেঙ্কারি নিয়ে ৮ বছর চুপ থাকার কারণ জানালেন খাজা

স্যান্ডপেপার গেট কেলেঙ্কারি নিয়ে ৮ বছর চুপ থাকার কারণ জানালেন খাজা
স্যান্ডপেপার গেট কেলেঙ্কারি নিয়ে ৮ বছর চুপ থাকার কারণ জানালেন খাজা

মঙ্গলবার নিজের আত্মজীবনীমূলক বই ‘সবর’ প্রকাশের আগে যেন বোমা ফাটালেন উসমান খাজা। নতুন করে উসকে দিলেন ৮ বছর আগে ঘটে যাওয়া কুখ্যাত স্যান্ডপেপার গেট কেলেঙ্কারিকে। ওই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি খেটেছেন স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট। কিন্তু খাজা বলেছেন, শুধু এই তিন জন নয়, বরং এর জন্য ‘আমরা সবাই দায়ী’।

আত্মজীবনী প্রকাশের তিন দিন আগে সংবাদপত্র নাইন-কে দেওয়া খাজার সাক্ষাৎকার ও আউটলেটে নিউজ কর্পস-এর মাধ্যমে সেই স্যান্ডপেপার গেট কেলেঙ্কারি নিয়ে তার লেখার টুকরো টুকরো অংশ প্রকাশ পায়। ওই বিতর্কিত ঘটনার আট বছর পর কেন এনিয়ে মুখ খুললেন, সেই ব্যাপারে যুক্তি দিয়ে তিনি ইনস্টাগ্রামে দুটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। খাজা জানান, কাউকে বিপদে ফেলতে চাননি বলেই এনিয়ে নীরব ছিলেন।

খাজা বলেন, বল টেম্পারিংয়ের সেই ঘটনা নিয়ে তিনি যা জানেন, তা এর আগে দুইবার জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রথমবার স্টিভ স্মিথ তাকে থামান, তারপর ২০২১ সালে বোলারদের বিবৃতির পর আর কিছু বলতে পারেননি তিনি। এবার সেই ব্যাপারটি উন্মোচন করার পেছনে শৈশবের বন্ধু ও দীর্ঘদিনের ওপেনিং সঙ্গী ওয়ার্নার তাকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

রোববার পোস্ট করা ভিডিওতে খাজা জানান, কেন তার মুখ খুলতে আট বছর লেগেছে এবং জোর দিয়ে আবারও বলেন, এই অপরাধের দায় শুধু ওয়ার্নার, স্মিথ এবং ব্যানক্রফটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত না। তার কথা, ‘আমি কাউকে বিপদে ফেলিনি। বর্তমানে এখন যারা দলে আছে এবং ওই সফরে যারা ছিল আমিসহ, আমরা ভুক্তভোগী নই। এই তিন জন আমাদের হয়ে সবার দোষ নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। তারা ভুক্তভোগী। লোকেরা তাদের প্রতারক বলছে, জনতার রোষানলে পড়েছে, সবার কাছে অপমানিত হচ্ছে।’

খাজা যোগ করলেন, ‘আমি আমার ছোটবেলার বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নারকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি সত্যিটা বলব, যাতে সে একটা গল্প বলতে পারে। এটার জন্য আমি একদমই অনুতপ্ত নই। আগেও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে আমি সব ক্রিকেটারের পক্ষ নিয়েছি, যেটা সঠিক মনে হয়েছে তার জন্য লড়েছি। এটাও তার থেকে ভিন্ন কিছু নয়।’

খাজা বলেছেন, ‘এই তিনজনের ন্যায়বিচার প্রাপ্য এবং আমি কারও দিকে আঙুল তুলিনি। আমি এখনও সেটাই খুঁজছি যা আমি অতগুলো বছর আগে খুঁজতাম। আমরা আমিসহ দলবদ্ধভাবে সব দোষ নিজেদের কাঁধে তুলে নেব, যাতে আমরা সবাই এই ঘটনাটা চিরতরে ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে পারি। জানেন কি? আমি এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা না করে এটা আবার করতাম।’

রোববার প্রথম ভিডিওর শুরুতে খাজা বলেন, তার বিবৃতিতে দেওয়া ‘আমরা সবাই জড়িত ছিলাম’ মন্তব্যটি পুরো দল যে দায়ী, সেই প্রসঙ্গে এসেছে। আর সবাই যে বিষয়টা জানতো, তা নিজে কখনও অস্বীকার করতেন না বলেছেন তিনি, ‘আমার বইয়ে আমি কখনও আরেকজনের পক্ষ হয়ে কথা বলতে পারি না।’

২০১৮ সালে কেপটাউন টেস্টের পর যখন স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে শাস্তি দেওয়া হলো, তখনই তিনি আসলে কী ঘটেছিল সেই ব্যাপারে ‘গণমাধ্যমে এসে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন’।

খাজা বললেন, ‘স্মাজ (স্মিথ) একজন মানুষ ও নেতা হিসেবে আমাকে বুঝিয়ে এটা থেকে বিরত রেখেছিল। সে দোষ নিজের ঘাড়ে নিতে চেয়েছিল, আমি তার সঙ্গে তর্ক করলাম, কিন্তু কিছুতেই সে রাজি হলো না। ওই প্রথমবার আমি বিষয়টা প্রকাশ্যে আনতে চেয়েছিলাম।’

২০২১ সালে দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যানক্রফট ইঙ্গিত দেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বল টেম্পারিংয়ের বিষয়টি বোলারদের জানা থাকার কথা। তারপর খাজা আবারও সত্যটা তুলে ধরার পদক্ষেপ নেন। কিন্তু বোলাররা যৌথভাবে তাদের বিবৃতি দেওয়ার পর তার মনে হয়েছিল, আর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। নিউজ কর্প-এ প্রকাশিত অংশে খাজা লিখেছেন, ‘এটা সত্যিই আমাকে বিরক্ত করেছিল, তবে ডেভিকে যতটা করেছিল ততটা নয়। ওই রাতে আমি বেশ কিছু উত্তপ্ত মেসেজ পেয়েছিলাম। আমি স্মাজের ব্যাপারে নিশ্চিত নই, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে তার বিষয়টা ভালো লাগেনি।’

ইনস্টাগ্রামে খাজা যোগ করেছেন, ‘ওইসময় আমি ওদের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে চেয়েছিলাম না। আমার স্বস্তিবোধ হচ্ছিল না। এটাই সত্যি। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ওই চার বছরে যখন আমি খেলছিলাম তখন কেন কিছু বলিনি? আপনি কি জানেন, এনিয়ে কথা বলা প্রথম ব্যক্তি আমি কখনও হতে চাইনি। আপনারা আমাকে ভীতু বা যাই বলেন না কেন, আমি জানি না কীভাবে এটা করতে হবে, কারণ আমি তখনও দলে। কীভাবে আমি বিষয়টা উত্থাপন করব, যখন আমি জানতাম আমার সতীর্থদের কেউ কেউ এটা নিয়ে কথাই বলতে চায় না? আমি জানতাম, যাই করি বা বলি না কেন, সবকিছু দলকে প্রভাবিত করবে।’

তিনি বলে গেলেন, ‘আমার দলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে আমি সবসময় সচেতন ছিলাম। কিন্তু এখন আমি আর দলের অংশ নই। এখন আমি যা বলি, সেটা আর দলের প্রতিফলন নয়। এখন আমার কথা দলের ওপর প্রভাবই ফেলবে না, আমি নিজের জন্য কথা বলি।’