সুপ্রভাত ঢাকা

পটুয়াখালীতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

পটুয়াখালীতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত
পটুয়াখালীতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

‘জীবনের গল্প শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় দিবসটি উপলক্ষে ঝাউতলা থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেরে বাংলা রোডের মেডিসন স্কয়ারে অবস্থিত এমপ্যাথি মানসিক হাসপাতালের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা এবং মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

এ বছরের ইংরেজি প্রতিপাদ্য “Lived experiences heard: real voices, real change”। এর বাংলা ভাবার্থ—‘জীবনের গল্প শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। প্রতিপাদ্যটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যকর পরিবর্তন আনার গুরুত্ব তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপ্যাথি মানসিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মেজর আব্দুল ওহাব মিনার (অব.)।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি), পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল আহসান মুন্না ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ুন কবির সোহাগ, পটুয়াখালী রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক (শিক্ষা) মো. জাকির হোসেন, পটুয়াখালী ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মো. হারুন অর রশিদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), পটুয়াখালী জেলা শাখার সহকারী সদস্যসচিব মো. মুশফিকুর রহিম মনির ও সদস্য মো. জাকির হোসেন।

এ সময় বক্তব্য দেন অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার মো. শামীম, ছাত্রশক্তির পটুয়াখালী জেলা আহ্বায়ক মিরাজ ইমতিয়াজসহ অন্যান্য অতিথিরা।

বক্তারা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করা এবং মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবার ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।

এমপ্যাথি মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. কামাল হোসেন বলেন, “মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তির বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা রয়েছে। তবে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নামে কিছু পুনর্বাসনকেন্দ্রে রোগীদের ওপর নির্মম অত্যাচার, অবিচার ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রোগীদের মুক্ত রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও চিকিৎসাবিধি অনুসরণ করে এমপ্যাথি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।