সুপ্রভাত ঢাকা

নায়িকা নয়, আমি পারফরমার হতে চাই: মারিয়া শান্ত

নায়িকা নয়, আমি পারফরমার হতে চাই: মারিয়া শান্ত
নায়িকা নয়, আমি পারফরমার হতে চাই: মারিয়া শান্ত

মারিয়া শান্ত। গত ঈদে মুক্তি পায় তাঁর সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। এখন নতুন একটি সিনেমার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এ ছাড়া মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত একটি নাটক ‘লাভ স্টোরিস’। নতুন কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন বুলবুল ফাহিম...

‘প্রেশার কুকার’ সিনেমা মুক্তির আগে আমি এই নাটকে অভিনয় করেছিলাম। সেটি আটকে ছিল। এখন নির্মাতা-প্রযোজক এটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন। কিছুদিনের মধ্যে এটি মুক্তি পাবে। এই নাটকে আমি, সারিকা সাবাহ ও সাদনিমা বিনতে নোমান কাজ করেছি।

নাটকে আমার চরিত্রটি বেশ রহস্যময়। তানিয়া নামে এক তরুণীর চরিত্রে আমাকে পাওয়া যাবে। যে দমবন্ধ করা এক জীবনে প্রতিনিয়ত যেন কোনো একটি সুর খুঁজে বেড়ায়। চরিত্রটি আমার কাছে বেশ আলাদা মনে হয়েছে। তাই কাজটি করেছি।

আমি পারফরমার হতে চাই। শুধু নায়িকা হওয়াটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি অভিনয় করতে চাই। যে ধরনের চরিত্র আগে করিনি কিংবা যে চরিত্র আমার সামনে আসেনি, সেসব চরিত্র করতে চাই। চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ বেশি। তেমন গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই করব। আমি গতানুগতিকভাবে এগোতে চাই না, গতানুগতিক কাজও করতে চাই না।

আপাতত টেলিভিশন নাটক নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। নিয়মিত নাটকের প্রস্তাব আসছে। প্রতিদিন একটি-দুটি করে স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি। কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগ গল্প আমার কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে না। তাই কাজ করার ইচ্ছা তৈরি হচ্ছে না।

গল্পগুলো আহামরি কিছু মনে হচ্ছে না। করার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। আমার কাছে মনে হয়, মন থেকে কাজটা করতে না চাইলে সেটি সুন্দরভাবে করা সম্ভব নয়। তাই আপাতত মন টানছে না। তবে বড় একটি কাজের পরিকল্পনা করছি। সেটি নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বলতে পারেন, পরবর্তী নতুন সিনেমার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেখা যাক কী হয়।

তাহলে কি কাজের সংখ্যার চেয়ে মানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

অবশ্যই। ক্যামেরার সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ, এটি আমি জানি। কিন্তু আমার কাছে সব সময় মনে হয়, ‘কোয়ালিটি ওভার কোয়ান্টিটি’। আমি কাজের মান ধরে রাখতে চাই। সে কারণেই অপেক্ষা করছি। পছন্দমতো কাজ হলে করব। নাটকও করব, যদি ভালো এবং পছন্দমতো কোনো কাজ পাই। একেবারে নাটক করব না, এমনটা বলছি না।

নাটকে জুটি প্রথা বেশ জনপ্রিয়। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?

জুটি করে কাজ করলে দর্শক পছন্দ করেন, এটি ঠিক। তবে আমি বিশ্বাস করি না, জুটি বেঁধে কাজ করলেই ভালো কাজ করা যায়। এটি আমার বিশ্বাসের জায়গা নয়। আমি কখনও নির্দিষ্ট কোনো জুটি বেঁধে কাজ করিনি। ইচ্ছা করেই এমনটা করিনি। আমার মনে হয়, জুটি করে কাজ করার চেয়ে ভালো কাজ করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো জুটিকে দর্শক যদি অনস্ক্রিনে দেখতে পছন্দ করেন, তাহলে অবশ্যই তারা একসঙ্গে কাজ করবেন।

হ্যাঁ, দু-একবার এমনটা ঘটেছে বলে মনে হয়। প্রথমদিকে একবার এমন হয়েছিল। একটি কাজে আমি লকড ছিলাম। কিন্তু শুটিংয়ের আগের দিন রাতে সেটি বাতিল হয়ে যায়। কাজটি পরে হয়েছে কিনা, সেটিও বলতে পারছি না। বিষয়টি অবশ্যই খুব হতাশাজনক ছিল। বিরক্তও লেগেছিল। কারণ, একটি শুটিংয়ের জন্য আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিই, সময় দিই। মানসিক প্রস্তুতিও একটা বিষয়। তাই হঠাৎ করে কাজটি বাতিল হয়ে যাওয়া খারাপ লাগারই বিষয়।

এখন এমন কিছু হলে কি আগের মতো খারাপ লাগে?

এখন যদি এমন কিছু হয়, সত্যি বলতে তেমন গায়ে লাগে না। এখন এমনটা হয়ও না। কারণ, বেশ কিছুদিন ধরে নিয়মিত কাজ করছি না। সম্প্রতি কয়েকটি ভালো বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি।