বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের নিয়ে পরিপূর্ণ ছিল ইংল্যান্ড-স্পেন ম্যাচ। কিন্তু স্পেনের কাছে ইংল্যান্ডের হার নির্ধারণ হয়েছে কিছু অপ্রত্যাশিত ভুলে।
প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার একদিন পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামে তাদের তিন খেলোয়াড়। এর মধ্যে দুজনের ভুল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দুটি গোল উপহার দিয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন, রায়ের প্রভাব কি ইংল্যান্ডের ম্যানসিটির খেলোয়াড়দের ওপর পড়েছিল? এমন প্রশ্ন করেছেন সাবেক ম্যানইউ ফুটবলার ও বিশ্লেষক রয় কিন।
আইটিভি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক কিন বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে মনোযোগী থাকা প্রয়োজন এবং তারা অবশ্যই প্রভাবিত হয়েছে। এতজন শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়কে এত ভুল করতে দেখা, নিঃসন্দেহে তাদের প্রভাবিত করেছে।’
ওয়েম্বলিতে হারের পর ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলকে প্রশ্ন করা হয়, ম্যানসিটির মামলার রায় কি মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে? তিনি বলেন, ‘আমার জন্য নয়, তবে ম্যানসিটির খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বিষয়টি কল্পনা করতে পারি। আমার চেয়ে খেলোয়াড়দের হাতে বেশি সময় আছে। আমি নিশ্চিত তারা এনিয়ে কথা বলেছে।’
সিটির তিন খেলোয়াড় এলিয়ট অ্যান্ডারসন, মার্ক গুয়েহি ও নিকো ও’রেইলি ইংল্যান্ডের হয়ে শুরুর একাদশে ছিলেন। সম্প্রতি সিটি থেকে বার্সেলোনায় যাওয়া রদ্রি ছিলেন স্পেনের একাদশে। এই চার জনের মধ্যে তিন জনই ওয়েম্বলিতে চোখে পড়ার মতো ভুল করেছেন।
প্রথমে গুয়েহিকে তার বক্স থেকেই ট্যাকল করে বল কেড়ে নেন এবং গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের মধ্যে রদ্রির চ্যালেঞ্জে জুড বেলিংহাম পড়ে যান এবং পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড, যদিও হ্যারি কেইন পা পিছলে সেই শটে ক্রসবারে আঘাত করেন। তারপর ও’রেইলি নিজের অর্ধে ভুল পাস দিলে তা থেকে বল পেয়ে স্কোর ২-২ করেন অ্যালেক্স বায়েনা।
ম্যানসিটির দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে খেলোয়াড়দের ভুলের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না কেইন, ‘হ্যাঁ, এনিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু দিন শেষে আমরা যখন ইংল্যান্ডে খেলি, তখন ক্লাব ফুটবলকে একপাশে সরিয়ে রাখি। এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি।’
গত শুক্রবার বিভিন্ন সূত্রে বিবিসি জানায়, আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের কারণে ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিটি। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি লিগ কর্তৃপক্ষ। শাস্তি হিসেবে তাদের পয়েন্ট কাটা হতে পারে, অথবা প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার কিংবা বড় অঙ্কের জরিমানাও গুনতে হতে পারে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে এই নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ইতোমধ্যে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে আইনি পরামর্শ চাইতে শুরু করেছে।

