ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো সব শট খেললেন, ছক্কার পর ছক্কা মারলেন, রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিও করলেন। ওয়ানডেতে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে এই ফরম্যাটে নিজেকে আরও ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন বিরাট কোহলি। তবে মাটিতেই পা রাখছেন। বিনয় ও কৃতজ্ঞতার কমতি নেই তার মনে।
ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে ৩০তম ও সব মিলিয়ে ৫৫তম সেঞ্চুরিতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কোহলি। তারপর ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানালেন, মাইলফলক নিয়ে বিশেষ চিন্তা তার কখনও ছিল না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে খেলতে পারার অবস্থানে থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এবং নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন।
এদিন শচীন টেন্ডুলকারের থেকে ৭২টি ম্যাচ কম খেলে এক দিনের ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান পার করেছেন কোহলি। কিন্তু এসব নজিরে কখনও মনোযোগ দেন না বলে জানালেন তিনি, ‘কখনোই মাইলফলকের কথা ভেবে খেলি না। পরিস্থিতি বুঝে দলকে সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব। তাতে কিছু কিছু জিনিস অর্জন করা যায়। এত দিন ধরে খেলতে পারার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম করি এবং যা অর্জন করেছি তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। সুযোগ কাজে লাগিয়েই আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। অনেকেই এই জায়গায় আসতে চায়। ভাগ্যবানেরাই পৌঁছাতে পারে। তাই মাটির কাছাকাছি থাকা খুব দরকার।’
জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের মানসিকতা নিয়ে কোহলি বলেন, ‘আমি স্রেফ কৃতজ্ঞ এবং খুশি। আমাদের শুধু পেছন ফিরে দেখতে হবে যে কোথায় থেকে এসেছি। যে খ্যাতি আমরা পাই এবং সমর্থকেরা আমাদের যেভাবে ভালবাসেন তাতে আমরা নিজেদের উত্থানের কথাটাই ভুলে যাই। কোথায় থেকে এসেছেন সেটা ভোলা খুব সহজ। কিন্তু ছোটবেলা থেকে উঠে আসা পথটার দিকে তাকালে কৃতজ্ঞতাবোধ আসবেই। এমনও হতে পারতো যে আমি হয়তো এখানে না-ই দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। হয়তো ভারতের হয়ে কোনও দিন খেলতেই পারতাম না। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এত অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারছি। এত মানুষের সামনে দলের হয়ে নিজের অবদান রাখতে পারছি। এই স্বপ্নটাই তো দেখেছিলাম। হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নেই। মাথা নিচু করে নিজের কাজ করা ছাড়া, নিজে হেসে অন্যকে হাসানোর সুযোগ করে দেওয়া ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’
ভারতের হয়ে শুধু ৫০ ওভারের ক্রিকেটই খেলেন তিনি। গত ১১টি ম্যাচে চারটি শতরান হয়ে গিয়েছে এই ফরম্যাটে। রয়েছে পাঁচটি অর্ধশতরান। কী ভাবে এতটা ধারাবাহিক থাকতে পারেন? কোহলির জবাব, ‘সবার আগে খেলাটাকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। কারণ আসল খেলাটা হয় মনে। আমি কখনোই খুব বেশি অনুশীলন করি না। তিন ফরম্যাটে খেলার সময় থেকেই এটা বজায় রেখেছি। মানসিক ভাবে তরতাজা থাকাই আমার কাছে আসল। বর্তমানে বাঁচতে ভালবাসি এবং মাঠে নেমে নির্দিষ্ট ভাবে নিজের কাজটা করতে পছন্দ করি। জীবনের এই পর্যায়ে নিজের খেলার ধরনকে একটা বা দুটো গিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই পর্যায়ে নতুন কোনও আঙ্গিকে নিজেকে পেশ করতে পারলে ভালই লাগে। আইপিএলে খেলি বা ভারতের হয়ে, এতে দলেরই উপকার হয়। অনেক মুক্তমনে খেলতে পারি। শরীরকেও ঠিক রাখি। আগে থেকে কল্পনা করে নিই কীভাবে খেলব। মাঠে নেমে সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।’
পরের বছর বিশ্বকাপে খেলা যে তার লক্ষ্য তা এ দিন আবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন কোহলি। জানিয়েছেন, তার মনে যথেষ্ট স্বচ্ছতা রয়েছে। খেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি আরও পরিশ্রম করতে এবং নিজেকে ফিট রাখতে চান, ‘শেষ ১৫ ওভার যাতে এই বাউন্ডারি থেকে ওই বাউন্ডারি পর্যন্ত দৌড়াতে পারি সেই চেষ্টা করি। বৃত্তের মধ্যে ফিল্ডিং করি। যতগুলো বিষয় ঠিক রাখার দরকার, সেটা ঠিক রাখি। এখনও এই ফরম্যাটে কিছুটা খেলা বাকি রয়েছে আমার। তাই প্রতিটা দিন উপভোগ করতে চাই। সুযোগ পেলে চাপে থাকা বদলে সেটা ভাল করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিজেকে নিজের মতো করে তুলে ধরি। নিজেকেই নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, ইতিবাচক ভাবে ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব, তবে বেপরোয়া হব না। পেশাদার এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে বেপরোয়া শট না খেলে দলকে জেতানোই আমার কাজ।’

