সুপ্রভাত ঢাকা

মা-বাবার সমর্থনে এতদূর আসতে পেরেছি

মা-বাবার সমর্থনে এতদূর আসতে পেরেছি
মা-বাবার সমর্থনে এতদূর আসতে পেরেছি

মডেলিং ও অভিনয় দিয়ে দর্শকপ্রিয়তা এবং প্রশংসার ঝুলি পূর্ণ করেছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। দেশের পাশাপাশি ভারতীয় বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। তাঁর ওটিটির কাজও প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত থেকে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। এবার যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মিথিলা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন নতুন কাজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা। আর তা তুলে ধরেছেন - আলাউদ্দীন মাজিদ

বেশি ভালো লাগা কাজ করছে-

বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। আমিও চাই গবেষক হিসেবে ভালো করতে। নতুন অভিজ্ঞতা হবে, জীবনে ভালো কিছু যুক্ত হবে। এটা সম্মানজনক পেশা। যে কাজ করতে ভালো লাগে, সেটাই এখন করব। এজন্য একটু বেশি ভালো লাগা কাজ করছে।

গবেষণা শুধু একাডেমিক কাজ নয়-

গবেষণাকে শুধু একাডেমিক কাজ হিসেবে দেখি না; মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলো বোঝা এবং তার কার্যকর সমাধান খোঁজার একটি মাধ্যম হিসেবেও দেখি। বিশেষ করে শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ, পরিবার এবং শিক্ষার পরিবেশ-এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে গবেষণার তথ্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্লোবাল এক্সপেরিয়ান্সকে কাজে লাগাব-

এ উদ্যোগটি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে; যেখানে একদম ছোট বাচ্চাদের (জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স) পরিবারগুলোকে তাদের বেড়ে ওঠার জন্য দরকারি সব সুযোগসুবিধা আর পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। স্থানীয় মানুষের চাহিদার সঙ্গে গবেষণার লক্ষ্যগুলোর মেলবন্ধন ঘটাতে এবং ডেটা ও প্রমাণ তৈরির মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে আমার গ্লোবাল এক্সপেরিয়েন্সকে কলাম্বিয়ায় কাজে লাগাতে পারব বলে আশা করছি।

অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব-

আমার দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতা গবেষণার ক্ষেত্রে আমাকে বাস্তব জীবনের নানা দিক বুঝতে সাহায্য করেছে। এখন গবেষণার মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতাকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে চাই।

তথ্য ও গবেষণা দিয়ে যাচাই দরকার-

একজন গবেষকের জন্য কৌতূহল, ধৈর্য এবং প্রমাণের প্রতি শ্রদ্ধা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধারণাকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে তথ্য ও গবেষণার ফলাফল দিয়ে সেটি যাচাই করা দরকার। আমি বিশ্বাস করি, ভালো গবেষণার মূল্য তখনই তৈরি হয়, যখন তার ফলাফল মানুষের জীবন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করা যায়।

একই সঙ্গে শিক্ষকতাও করছি-

একই সঙ্গে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক-এ ‘অ্যাডজাংন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেছি। সেখানে ‘নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ পড়াচ্ছি, যেখানে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জগতের নন-প্রফিট সংস্থাগুলোর কাজের ধারণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।

ব্র্যাকের প্রতি মায়া জন্মে গেছে-

ব্র্যাকে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রতিও অনেক মায়া জন্মে গেছে। ব্র্যাকের সবাই আমাকে ভালোভাবেই বিদায় দিয়েছেন। অনেক বছর কাজ করা হলো। এ প্রতিষ্ঠানের হয়ে আমি কাজ যেমন করেছি, অনেক দেশ ঘুরেছি, অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে।

মা-বাবার জন্য আজকের আমি-

আমার জীবনে মা-বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। তাঁরা সব সময় আমাকে উৎসাহ দেন, অনুপ্রেরণা দেন। তাঁদের সমর্থন পেয়েছি বলেই এতদূর আসতে পেরেছি। তাঁদের জন্যই আজকের আমি।