দীর্ঘ নয় বছর পর কুয়াকাটায় ফিরছে পর্যটনের উৎসব বিচ কার্নিভাল। এ আয়োজনকে সফল, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর করতে প্রস্তুতি ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় অংশ নেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কুয়াকাটায় কার্নিভালের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য আয়োজনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, আবাসন ও পর্যটনসেবার মানোন্নয়ন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটা শুধু পটুয়াখালীর নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র। এ পর্যটনকেন্দ্রকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল–২০২৬ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটনসেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমি চাই, এই কার্নিভালের মাধ্যমে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হোক। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হোক।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল জলিল হাওলাদার, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল আজিজ মুসুল্লি, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব ও ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কুয়াকাটার সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন, কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরামের মুখপাত্র মতিউর রহমান, কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল–২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হবে। এ আয়োজনের মাধ্যমে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা দেশজুড়ে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

