সুপ্রভাত ঢাকা

কোটালীপাড়ায় ৩১৫ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

কোটালীপাড়ায় ৩১৫ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
কোটালীপাড়ায় ৩১৫ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

গোপালগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার ১ হাজার ৩০৭টি পূজামণ্ডপে প্রতিমার রং, সাজসজ্জা ও মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। এর মধ্যে কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩১৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জের শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পূজার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমার সাজসজ্জা, মণ্ডপের নান্দনিকতা, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫০টি, কোটালীপাড়ায় ৩১৫টি, মুকসুদপুরে ৩০৭টি, কাশিয়ানীতে ২২৬টি এবং টুঙ্গিপাড়ায় ৯০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপের জন্য সরকারিভাবে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলার উল্লেখযোগ্য পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে রঘুনাথপুর, বেদগ্রাম, কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, গোহাটা কালীমন্দির, সিকদারপাড়া ও সাহাপাড়া। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী উলপুর জমিদারবাড়ি, টুঙ্গিপাড়ার মণ্ডলবাড়ি, মুকসুদপুরের কালিনগর এবং কোটালীপাড়ার ঘাঘর, ভাঙ্গার হাট ও ভূতেরবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে দুর্গোৎসব ঘিরে চলছে বিশেষ আয়োজন। কাশিয়ানীর রামদিয়া বাজারেও পূজার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।

প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড়

মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। কোথাও প্রতিমার গায়ে রঙের শেষ প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও চলছে অলংকার পরানো ও সাজসজ্জা। দেবী দুর্গার পাশাপাশি সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমাও সাজানো হচ্ছে যত্নসহকারে। মাটির কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে রং ও অলংকারের কাজ—প্রতিটি ধাপেই শিল্পীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের ছাপ ফুটে উঠছে।

প্রতিমাশিল্পী প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে যত্ন নিতে হয়। বিশেষ করে শেষ পর্যায়ে মাটির কাজ, মুখাবয়ব ও অলংকার তৈরিতে বাড়তি মনোযোগ দিতে হয়, যাতে প্রতিমার সৌন্দর্য যথাযথভাবে ফুটে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিমাশিল্পী হৃদয় দাস বলেন, এবার তাঁরা চারটি মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি মন্দিরের প্রতিমায় রং করার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে গোপালগঞ্জের সাহাপাড়া মন্দিরে প্রতিমায় রং করছেন তিনি। দুই দিনের মধ্যে সেখানকার কাজ শেষ করে চতুর্থ মন্দিরের প্রতিমায় রং করতে সাতক্ষীরায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁদের।

প্রতিমাশিল্পী সুজন পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির শুরু থেকেই নিরলস পরিশ্রম করতে হয়। উৎসবের আগে শেষ মুহূর্তে রং ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীরা যখন তাঁদের শিল্পকর্মের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তখনই সব পরিশ্রম সার্থক হয়।

সম্প্রীতির উৎসব ঘিরে প্রত্যাশা

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি বিমল বিশ্বাস বলেন, দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা তাঁদের।

এদিকে দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং টহল জোরদারের উদ্যোগ রয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

দেবী দুর্গার আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন ভক্তরা। প্রতিমাশিল্পীদের তুলির শেষ আঁচড়, আয়োজকদের নিরলস শ্রম এবং ভক্তদের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবের আগেই গোপালগঞ্জজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। এখন অপেক্ষা ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার।