ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলা ও গুলিবর্ষণে দুই শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা কবরস্থানের কাছে ইসরায়েলি হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ওয়াদি গাজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে এক শিশু।
উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের আল-কুসাইস এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অন্যদিকে, গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেইতুন এলাকায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে এক দম্পতি নিহত হন। এ ঘটনায় তিন নারীসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ গাজাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। খান ইউনিসের দক্ষিণে কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া হামাদ সিটি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে সামরিক বাহিনীর গুলিবর্ষণে এক নারী ও দুই শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
পশ্চিম তীরে কূটনীতিকদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ১০
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘাত নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই গত কয়েক দিনে কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বেড়েছে।
গত শনিবার তাইবেহর কাছে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তেল আবিবের নিরাপত্তা বাহিনী ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। রবিবার এক বিবৃতিতে জোটটি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। একই দিন পৃথক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানায় কানাডাও।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ হামলাটিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের এ ধরনের সহিংসতা একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। এটি ফিলিস্তিনি জনবসতিগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে রবিবার জেরুজালেমে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন দেশটির সাবেক কূটনীতিকরা। এ সময় তাঁরা ইহুদি সন্ত্রাসবাদের অবসানের দাবি জানান।
এদিকে, পশ্চিম তীরের একটি খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রাম সফর করেছেন মার্কিন কূটনীতিকরা। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ওই সফরে তাঁরা একটি গির্জা পরিদর্শন করেন। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

