‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে বিয়ে নিয়ে কথোপকথনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও তার স্ত্রী রাশমিকা মান্দানা। এবার স্বামীর পক্ষ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাশমিকা। অনলাইনে বিজয়কে লক্ষ্য করে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের কথোপকথনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে রাশমিকা বলেন, তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনলাইনে যে আলোচনা চলছে, তার অনেকটাই প্রেক্ষাপটের বাইরে গিয়ে করা হচ্ছে। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনার জবাব দেন না তিনি। তবে এবার বিষয়টি সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই অভিনেত্রী।
বিতর্কের সূত্রপাত করণ জোহরের সঞ্চালনায় ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। সেখানে রাশমিকা জানান, একবার বিমানবন্দরে বসে তিনিই প্রথম বিজয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিজয়কে একশবার পর্যন্ত বলতে হয়েছিল তাকে। পরে রাশমিকা ব্যাখ্যা করেন, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রায় এক বছর ধরে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
তবে রাশমিকার ভাষ্য, বিষয়টি কে কতবার বিয়ের কথা বলেছেন কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে কার কত সময় লেগেছে, তা নিয়ে ছিল না। বরং দুজনের একে অপরকে বোঝার জন্য সময় নেওয়া এবং জীবনের নানা পরিস্থিতিতে একসঙ্গে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াই ছিল তাঁদের আলোচনার মূল বিষয়। রাশমিকা লেখেন, আমাদের দুজনের জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হলেও তা একে অপরের পরিপূরক। আমি আবেগ দিয়ে ভাবি, আর ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব দিকগুলো বিবেচনা করে। আমাদের জীবনে দুজনেরই এই গুণগুলো প্রয়োজন।
বিয়েকে কেবল আংটি পরানো কিংবা হাঁটু গেড়ে বসে প্রস্তাব দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না এই অভিনেত্রী। তার কাছে বিয়ে মানে একসঙ্গে জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। বিজয়কে নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথাও অকপটে জানিয়েছেন তিনি। রাশমিকার কথায়, আমি আমার মানুষটাকে নিয়ে ভীষণ মুগ্ধ। এটা কখন থেকে খারাপ কিছু হয়ে গেল?
বিজয়কে বারবার বিয়ে করতে রাজি বলেও জানিয়েছেন রাশমিকা। তিনি বলেন, এমন একজন মানুষ খুঁজে নিন, যিনি আপনাকে এত সুন্দরভাবে ভালোবাসবেন যে বিয়ের পরও তাকে আবার বলবেন, চলো বিয়ে করি। আমি হাজারবার এটা করতে রাজি ১০০ বার তো কিছুই না।
সম্পর্ক নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শ দেয়া ব্যক্তিদেরও জবাব দিয়েছেন রাশমিকা। তিনি বলেন, জীবনের কঠিন সময়ে বিজয় তার পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন। বর্তমানে তিনি নিজের জীবনে সবচেয়ে সুখী বলে জানিয়েছেন। রাশমিকা আরও বলেন, আমি সুখী, পরিতৃপ্ত এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।
তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া ধারণার বদলে নিজেদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্বামীকে সমর্থন জানাতে গিয়ে রাশমিকা নারীবাদ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তার মতে, নিজের সম্পর্কে সমালোচনা সহ্য করতে পারলেও পরিবারকে না জেনে তাঁদের নিয়ে মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি লেখেন, আমাকে নিয়ে যত খুশি সমালোচনা করুন। আমি নিতে পারব। কিন্তু আমার পরিবারকে না জেনে তাদের নিয়ে কথা বলা নারীবাদ নয়। এটা নারীবাদের আড়ালে হয়রানি। রাশমিকার মতে, নারীবাদের মূল কথা অন্যকে ছোট করা কিংবা নারী-পুরুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং নিজের জীবন নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
এদিকে অনলাইনে সমালোচনার জবাবে বিজয়ও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওটিতে অনুষ্ঠান দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্লেষণ করা ব্যক্তিদের নিয়ে রসিকতা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশমিকার সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তারা দুজনই একসঙ্গে সুখী। বিজয় লিখেছেন, যারা আমাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য বলছি আমরা দুজনই দারুণ সুখী। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। পৃথিবীর বিপরীতে যদি শুধু আমি আর ও থাকি, তাতেও আপত্তি নেই।

