সুপ্রভাত ঢাকা

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারই সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে কেইনকে

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারই সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে কেইনকে
ফাইল ছবি

আর্জেন্টিনার কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হার এখনও ভুলতে পারেননি হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ড অধিনায়কের কাছে সেটিই হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের পরাজয়। শুধু হার নয়, নিজেদের চেনা ফুটবল থেকে সরে গিয়ে ম্যাচটি শেষ করার হতাশাই কেইনের কষ্ট আরও বাড়িয়েছে। ইএসপিএনের প্রতিবেদন।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হারের পর ১০ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই ম্যাচের স্মৃতি এখনও তাড়া করছে ইংল্যান্ডকে। থমাস টুখেলের অধীনে নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে এখন নেশনস লিগ ও ২০২৮ ইউরোর প্রস্তুতিতে মনোযোগী দলটি। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই হার যে সহজে পেছনে ফেলে আসা যাচ্ছে না, কেইনের কথাতেই তা স্পষ্ট।

এমনকি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনালও দেখেননি কেইন। নিউইয়র্কে গলফ খেলেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ফাইনাল ও সেমিফাইনালসহ বড় মঞ্চে একাধিকবার হতাশ হতে হয়েছে ৩৩ বছর বয়সী কেইনকে। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের স্মৃতিও তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়। কিন্তু এবার আর্জেন্টিনার কাছে হারকেই তার চেয়েও বেশি কষ্টের বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

এ প্রসঙ্গে কেই বলেন, ‘আমি ফাইনাল খেলেছি, সেমিফাইনাল খেলেছি এবং খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। প্রতিটি হারই ভিন্নভাবে কষ্ট দেয়। তবে এবারটা নিশ্চিতভাবেই বেশি কষ্ট দিয়েছে। কাতারে পেনাল্টি মিসের চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছি, বিশেষ করে যেভাবে এবার ম্যাচটি শেষ হয়েছে।’

কেন এই হার এতটা কষ্ট দিয়েছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কেইন। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ড নিজেদের বিশ্বাস ও পরিচিত খেলার ধরন ধরে রাখতে পারেনি। ‘একটি দল হিসেবে মনে হয়েছিল, এটা আমরা নই। আমরা যে দল হতে চেয়েছিলাম এবং যে দল হওয়ার কথা বলেছিলাম, এটা সেই দল ছিল না। কখনো কখনো নিজের বিশ্বাসের বিপরীতে গিয়ে হারলে সেটি ১০ গুণ বেশি কষ্ট দেয়।’

বড় টুর্নামেন্টের শেষ দিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেন একই ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেটি নিয়েও ভাবতে চান কেইন। এখন সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে চান কেইন। তার চোখে নেশনস লিগ শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়; দীর্ঘদিন পর ইংল্যান্ডের হাতে কোনো ট্রফি উঠলে সেটি ২০২৮ ইউরোর আগে দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে।

ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম পরীক্ষাই কঠিন। শনিবার ওয়েম্বলিতে নেশনস লিগে স্পেনের মুখোমুখি হবে কেইনের দল। ইউরোর সর্বশেষ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানো স্পেন ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল। ফলে এই ম্যাচে নিজেদের মানসিকভাবে কতটা ফিরে পেয়েছে ইংল্যান্ড, সেটিও দেখার বিষয়।