সুপ্রভাত ঢাকা

ব্যালন ডি’অর

বিশ্বজয়ের পর এবার বর্ষসেরা স্পেন কোচ

 বিশ্বজয়ের পর এবার বর্ষসেরা স্পেন কোচ
ফাইল ছবি

বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করার পর এবার ব্যক্তিগত স্বীকৃতির মঞ্চেও সেরার আসনে লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে পুরস্কার হাতে পেয়ে নিজের কৃতিত্বের গল্প শোনাননি স্পেনের এই কোচ। বরং সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের। তার চোখে, এই অর্জন কোনো একজনের নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ একটি দলের।

বিশ্বকাপ জয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই এবার বর্ষসেরা পুরুষ কোচের পুরস্কার জিতেছেন দে লা ফুয়েন্তে। সোমবার লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় এই স্বীকৃতি। আর্সেনালের মিকেল আরতেতা, পিএসজির লুইস এনরিকে, অ্যাস্টন ভিলার উনাই এমেরি ও বায়ার্ন মিউনিখের ভিনসেন্ট কোম্পানিকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জিতেছেন ৬৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করাই ছিল তার এই স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দে লা ফুয়েন্তে। তার কাছে শুধু বিজয়ী হওয়াই নয়, মনোনীত অন্য কোচদের সঙ্গে একই তালিকায় থাকাটাও ছিল সম্মানের। প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তারাও এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।

এরপরই নিজের অর্জনের কৃতিত্ব ভাগ করে দেন দলের সবার সঙ্গে। দে লা ফুয়েন্তের ভাষায়, এই স্বীকৃতি ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত সাফল্যের প্রতিফলন। খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সহযোগিতা, উদার মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতাকেই তিনি সাফল্যের মূল রহস্য হিসেবে দেখেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্পেনের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বদলে যেতে থাকে দলটির সাফল্যের চিত্র। তার কোচিংয়ে স্পেন জিতেছে ২০২৩ সালের উয়েফা নেশনস লিগ, ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সবশেষ ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের এই ধারাবাহিকতাই তাকে কোচ হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০২৩ সালে। ক্রোয়েশিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে নেশনস লিগের শিরোপা জেতে দলটি। পরের বছর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো ইউরোপসেরা হয় স্পেন। টুর্নামেন্টের সাতটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল দলটি।

এরপর আসে সবচেয়ে বড় সাফল্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হলেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে নিশ্চিত হয় শিরোপা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলে স্প্যানিশরা।

দে লা ফুয়েন্তের সাফল্যের পেছনে রয়েছে স্পেনের ফুটবল কাঠামো সম্পর্কে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার আগে বয়সভিত্তিক দলগুলোতে কাজ করেছেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে ইউরোপিয়ান শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে স্পেনের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে রুপার পদকও এনে দিয়েছিলেন।