বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মারামারি ও হট্টগোলের পর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় কক্ষটি থেকে পুলিশ দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে শ্রমিক নেতাদের দুটি গ্রুপের।
মঙ্গলবার রাতে দেড় ঘন্টার ব্যবধানে দুই পক্ষ বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে।
তবে মঙ্গলবারের ঘটনায় বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে ঘটনার পর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আজিম ভূঁইয়াসহ চারজনকে আটক করেছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে পুলিশ সূত্র বলছে, তাদের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে ৫ আগস্ট পরবর্তী শ্রমিক ইউনিয়নের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কয়েক মাস আগে সেখানে ২২ সদস্যের নতুন একটি টার্মিনাল কমিটি হয়েছে। ওই কমিটি বাস প্রতি প্রতিদিন ১০ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করে। গতকাল মঙ্গলবার টার্মিনাল কমিটি চাঁদার প্রায় ৬৫ হাজার টাকা কমিটির ২২ জনসহ ৪১ জনকে ভাগ করে দেন। এ নিয়ে একটি পক্ষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়। যার জন্য গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় হোয়াটস্ অ্যাপ গ্রুপে ‘ইউনিয়ন কার্যালয়ে বিশেষ সভা’ ঢাকা হয়। পূর্ব বিরোধ ও টার্মিনালের চাঁদা ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার রাতে ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় প্রতিপক্ষের মারধরে দুজন গুরুত্বর আহত হন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। এ ইউনিয়ন কার্যালয় সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ১টি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার কিছু পরে শহরে বিভিন্ন সড়কে ১৫-২০টি মোটরসাইকেল যোগে অস্ত্রধারী একদল যুবককে চক্কর দিতে দেখা যায়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বুধবার বিকেলে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গ্যাঞ্জামের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে। এ সময় কক্ষটি থেকে পরিত্যাক্ত একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অস্ত্রের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

