রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি গান নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ একক সংগীতানুষ্ঠান। আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে একক সংগীত পরিবেশন করবেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, শিক্ষক ও গবেষক প্রিয়াংকা ভট্টাচার্য্য।
রবীন্দ্রনাথের গানের অন্তর্নিহিত ভাব, সৌন্দর্য ও দর্শনকে কণ্ঠে ধারণ করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীতের বৈচিত্র্যময় রূপ ও ভাবের সঙ্গে শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সংগীতের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস থাকবে।
রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া প্রিয়াংকা ভট্টাচার্য্যের সংগীতের সঙ্গে পথচলা শুরু ছোটবেলা থেকেই। বাবা প্রয়াত মৃণাল কুমার ভট্টাচার্য্য ও মা সীমা ভট্টাচার্য্যের অনুপ্রেরণায় সংগীতে হাতেখড়ি তাঁর। বর্তমানে শাস্ত্রীয়সংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, ঠাকুরবাড়ির গান, ব্রহ্মসংগীত, তিন কবির গান ও পুরাতনী বাংলা গানসহ সংগীতের বিভিন্ন ধারায় তাঁর সাধনা চলছে বিদুষী রাজ্যশ্রী ঘোষ, ড. সুকান্ত চক্রবর্তী ও ড. অভিজিৎ মজুমদারের নিবিড় তত্ত্বাবধানে। শৈশবে তিনি ‘একুশে পদক’প্রাপ্ত পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় গুণী শিক্ষকদের কাছে সংগীতের তালিম নেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ছায়ানটে ড. সন্জীদা খাতুন, মিতা হক, রেজওয়ান আলী লাভলু, লাইসা আহমেদ লিসাসহ বিশিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন।

প্রিয়াংকা ভট্টাচার্য্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের সংগীত-প্রবেশ পরীক্ষায় প্রথম মানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনে শিক্ষক সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
শৈশব থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন প্রিয়াংকা। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ২০০৬, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে উচ্চাঙ্গসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। ধ্রুব পরিষদ আয়োজিত দেশব্যাপী স্বর্ণপদক প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।
সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে গবেষণাতেও আগ্রহী প্রিয়াংকা। রবীন্দ্রসংগীতের রূপ, ভাব, রূপান্তর এবং রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীলতার নানা দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন তিনি। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘রবীন্দ্রনাথ অসীমের চিরবিস্ময়’ গ্রন্থে তাঁর মৌলিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউ জার্নালেও তাঁর গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
সংগীতের বিস্তৃত পরিসর ও আধুনিক প্রেক্ষাপট বোঝার প্রয়াসে Berklee College of Music, USA অনুমোদিত ‘The Art of Music Production’ ও ‘Music for Wellness’ এবং Duke University অনুমোদিত ‘Music as Biology: What We Like to Hear and Why’ কোর্স সম্পন্ন করেছেন তিনি।
প্রিয়াংকার পরিবেশিত গান বিভিন্ন অডিও সংকলন ও আর্কাইভাল রেকর্ডিং প্রকল্পে সংরক্ষিত হয়েছে। শিগগিরই তাঁর একক গানের সিডি প্রকাশেরও কথা রয়েছে। সংগীতের পাশাপাশি ছবি আঁকা ও আলপনার প্রতিও তাঁর রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। বর্তমানে তিনি শিল্পী শ্রীসুধীরঞ্জন মুখার্জির কাছে আলপনার বিভিন্ন কোর্সে যুক্ত আছেন।
প্রিয়াংকা ভট্টাচার্য্য মনে করেন, রবীন্দ্রনাথের গানের অন্তর্নিহিত ভাব ও সৌন্দর্যকে নিজের কণ্ঠে অনুভব করে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সংগীতের ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই একজন শিল্পীর সার্থকতা। পরিবেশনা, শিক্ষাদান, গবেষণা ও সংরক্ষণ—এই সমন্বিত পথেই এগিয়ে চলছে তাঁর সংগীতসাধনা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংগীতপ্রেমী ও সংস্কৃতিপ্রেমী সবাইকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

