প্রেম শুধু কাছে পাওয়ার গল্প নয়, কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে ছেড়ে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতাও। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ত্যাগ আর একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নের পর হঠাৎ যখন একজন মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাখ্যায় ভালোবাসাকেই ‘অজ্ঞতার সময়’ বলে পেছনে ফেলে যান, তখন সেই গল্পে প্রশ্ন ওঠে অনেক কিছু নিয়েই। পাকিস্তানি নাটক ‘দার-ই-নিজাত’-এর ১৩তম পর্বে এমনই এক সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকদের সামনে এসেছে।
এ নাটকে জামিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নামির খান, আর জারিয়াবের ভূমিকায় রয়েছেন দুরেফিশান সেলিম। এআইওয়াই-এর জনপ্রিয় নাটকটির ১৩তম পর্ব সম্প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জামিল ও জারিয়াবের সম্পর্কের পরিণতি। তবে কেবল প্রেম ভেঙে যাওয়ার ঘটনাই নয়, ধর্ম, বিয়ে, নারী-পুরুষের জন্য ভিন্ন মানদণ্ড এবং সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ববোধ সবকিছু মিলিয়েই নতুন করে আলোচনায় এসেছে নাটকটি।
গল্পে দেখা যায়, বহু বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা জামিল ও জারিয়াবের সম্পর্ক একসময় আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এমনকি শৈশবের প্রেমিকা জারিয়াবের সঙ্গে কিছুদিন একসঙ্গে থাকার পরও হঠাৎ তাকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জামিল।
গল্পের মোড় ঘোরে জামিলের ধর্মীয় জীবনে নতুনভাবে ফিরে আসার পর। তিনি একটি মাদ্রাসার অচেনা নারীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের আগে কিংবা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোনো পর্যায়েই জারিয়াবকে কিছু জানাননি তিনি। এই সিদ্ধান্তের পর উত্তর খুঁজতে জামিলের বাড়িতে হাজির হন জারিয়াব। সেখানেই দুজনের কথোপকথন পর্বটির সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য হয়ে ওঠে।
আবেগপ্রবণ জারিয়াবের সামনে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামিল বলেন, তার সঙ্গে কাটানো সময় ছিল তার ‘অজ্ঞতার যুগ’। জামিলের ভাষায়, ‘আমি তোমার সঙ্গে যে সময় কাটিয়েছি, সেটা ছিল আমার অজ্ঞতার সময়। আমি সেসব পেছনে ফেলে এসেছি। সামনে এগিয়ে যেতে আমার এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রয়োজন ছিল, যে আমার ধর্মীয় জীবনে আমাকে সহযোগিতা করবে। এমন একজন, যে ধার্মিক, পবিত্র ও নিষ্পাপ।’
এরপর জামিল বলেন, ‘আমার মনে হয়, আল্লাহ আমার তওবা কবুল করেছেন এবং তার ফল হিসেবেই তাকে আমার জীবনে দিয়েছেন।’ জামিলের এমন অবস্থানের পর জারিয়াবকে নিজের মতো কাউকে বিয়ে করার পরামর্শও দেন তিনি। কিন্তু জারিয়াবের প্রশ্ন থেকেই যায় তাহলে কি শুধু একজন পুরুষেরই তওবা করার অধিকার রয়েছে?
জামিল অবশ্য সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন না। বরং আবারও একজন ধার্মিক স্ত্রীর মধ্যে কী ধরনের গুণ থাকা উচিত, তা ব্যাখ্যা করতে থাকেন। একই সঙ্গে জারিয়াব কেন তার নতুন মানদণ্ড পূরণ করেন না, সেটিও বোঝানোর চেষ্টা করেন। আর এই জায়গাতেই দর্শকদের বড় একটি অংশের প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়ে ওঠে। কারণ, জামিলের নিজের অতীতকে ‘অজ্ঞতার সময়’ হিসেবে দেখার বিপরীতে জারিয়াবের ভালোবাসা, ত্যাগ ও আন্তরিকতার বিষয়টি গল্পে আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
নাটকের আগের ঘটনাপ্রবাহেও জারিয়াবের আত্মত্যাগের চিত্র দেখা যায়। জামিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারায় তাকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে এবং পাশে থাকতে জারিয়াব নিজের হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পর্যন্ত ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল। ফলে সম্পর্কের জন্য জারিয়াবের ত্যাগের বিপরীতে জামিলের হঠাৎ সরে যাওয়া দর্শকদের কাছে আরও তীব্র হয়ে ধরা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাকিব খানের পরিচালনায় ‘দার-ই-নিজাত’ নাটকে নামির খান ও দুরেফিশান সেলিম ছাড়াও অভিনয় করছেন শেহেরিয়ার মুনাওয়ার, রোমাইসা খান, সাহার হাশমি, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ ও নাদিয়া আফগানসহ অনেকে।

