কীটনাশক ছাড়াই ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে রোপা আমন ধানের ক্ষেতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ‘আলোক ফাঁদ’। কম খরচে সহজে তৈরি করা এ ফাঁদ ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন বাগেরহাটের কৃষকরা।
আলোক ফাঁদ মূলত ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত ও দমনের একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। ধানখেতের পাশে বাঁশের খুঁটির ওপর বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে এর নিচে ডিটারজেন্ট পাউডার বা কেরোসিন মিশ্রিত পানি ভর্তি পাত্র রাখা হয়। সন্ধ্যার পর আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পোকামাকড় ওই পাত্রে পড়ে মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেলও ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছিল।
চলতি ২০২৬ মৌসুমের আবাদি জমির লক্ষ্য মাত্রা ছিল প্রায় ৬৯ হাজার হেক্টর। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মো. মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে।
বাগেরহাটে উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয়—এই তিন ধরনের আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে ব্রি-৯০, ব্রি-১০৩, ব্রি-৫১, ব্রি-৫৮, ব্রি-৮৭ ও ব্রি-৯৫ জাতের রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের রোগবালাই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন ব্লকে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত ও দমনে কাজ করছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
ডিডি মো. মোতাহার হোসেন বলেন, “আলোক ফাঁদ কৃষকদের জন্য খুবই উপকারী একটি পদ্ধতি। এটি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ইচ্ছা করলে কৃষকরা নিজ উদ্যোগেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।”
এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফকিরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকে একযোগে আমন ধানের ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত ও দমনে আলোক ফাঁদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নয়ন সেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ব্লকের প্রায় ২৫০ জন আমন চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষকদের মতে, আলোক ফাঁদ ব্যবহারে ক্ষতিকর পোকার প্রাদুর্ভাব কমার পাশাপাশি কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচও কমানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তি আমন চাষে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

