সুপ্রভাত ঢাকা

পর্যটন কার্নিভালে উৎসবমুখর কুয়াকাটা, পর্যটকের ঢল

পর্যটন কার্নিভালে উৎসবমুখর কুয়াকাটা, পর্যটকের ঢল
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি, অন্যদিকে পর্যটন কার্নিভাল—দুই মিলে সৈকতজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের আগমন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পর্যটন কার্নিভালের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এবিএম মোশাররফ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই।

বেলা ১১টার দিকে আবাসিক হোটেল খান প্যালেসে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও পর্যটন কার্নিভালের প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান।

কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটায় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। এসব দোকানে ঘুড়ি, খেলনা, ফুলসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকার গাজীপুর থেকে আসা ঘুড়ি ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, কার্নিভাল উপলক্ষে তিনি ৫০০টি ঘুড়ি এনেছেন। তাঁর ভাষ্য, কুয়াকাটায় অন্যান্য খেলনার তুলনায় ঘুড়ির চাহিদা বেশি।

ঢাকার শেওড়াপাড়া থেকে আসা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বিভিন্ন রঙের ফুল নিয়ে বিক্রির আশায় ঘুরছেন। তাঁর প্রত্যাশা, পর্যটকদের ভিড়ে ভালো বিক্রি হবে।

কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সুজন মিয়া জানান, কার্নিভাল উপলক্ষে তিনি পাদুকাসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত মালামাল তুলেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক দোকানমালিকই ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত পণ্য মজুত করেছেন।

অন্যদিকে, কুয়াকাটার শুঁটকিপল্লিতেও বেড়েছে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা। শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. হারুন মিয়া বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত পণ্য তুলেছেন। পর্যটকদের আগমনে ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

তবে উৎসবের আমেজের মধ্যেও আবাসিক হোটেল-মোটেলের ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন পর্যটক। তাঁদের অভিযোগ, ৫০ শতাংশ ছাড়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। বরং দুই হাজার টাকা ভাড়ার কক্ষের জন্য চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে প্রতারণা বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

কার্নিভালকে ঘিরে পর্যটকের ব্যাপক উপস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হলেও হোটেলভাড়া নিয়ে পর্যটকদের অভিযোগ পর্যটনসেবার মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।