আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রায় সাত বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়সহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে কারিগরি আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সদিচ্ছা ও সাহসী সিদ্ধান্তের অভাব ছিল। তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাবে সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদ্মা ব্যারেজের মতো বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় সরকার এ সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সামান্য কমবেশি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
প্রকল্পের সুফল তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন। এর ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
কারিগরি আলোচনায় প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, নদীর গভীরতা পরিবর্তনের কারণে ২০১৬ সালে প্রণীত পদ্মা ব্যারেজের নকশায় অবস্থানগত কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই-সংক্রান্ত সব কাজ শেষ করা হবে।
তিনি জানান, ব্যারেজের উজানে ১৬৫ কিলোমিটার নদী এলাকায় পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পানির চাপ ও উচ্চতা বাড়তে পারে। এ কারণে পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্ষাকালে ব্যারেজের ৭৮টি গেটই খোলা রাখা হবে, ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা থাকবে না বলে জানান তিনি।
পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার এবং বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

