সুপ্রভাত ঢাকা

কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনের বীচ কার্নিভাল

কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনের বীচ কার্নিভাল
কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনের বীচ কার্নিভাল

সমুদ্রের গর্জন, বালুকাবেলায় ঘুড়ির উড়াউড়ি, তারকা শিল্পীদের গানে মাতোয়ারা দর্শক আর বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনে উৎসবমুখর হতে যাচ্ছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বীচ কার্নিভাল’। এ আয়োজনকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রটিতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। হোটেল-মোটেলগুলোতে আগাম বুকিংয়ের চাপ বেড়েছে, আর পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে এবং পর্যটন উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে অনুষ্ঠিতব্য এবারের বীচ কার্নিভাল সাজানো হচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বর্ণিল ও জমকালো এ উৎসব কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি হোটেল-মোটেলে অন্তত দুই সপ্তাহ আগেই বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। সৈকতকেন্দ্রিক বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজিয়ে তুলতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

কার্নিভাল উপলক্ষে থাকছে নানা বয়সী মানুষের জন্য আকর্ষণীয় আয়োজন। শিশুদের ঘুড়ি উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ছয় কিলোমিটার বীচ রান, সেলিব্রিটি বীচ ক্রিকেট, মিউজিক কনসার্ট, বাউল গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখবে উৎসবের পরিবেশ। পাশাপাশি থাকছে পিঠা উৎসব, লেম্বুর বনে সূর্যাস্ত উপভোগ এবং চর বিজয় ভ্রমণের মতো ব্যতিক্রমী আয়োজন। দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উৎসবে বাড়তি আকর্ষণ যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগেও কুয়াকাটায় বীচ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবার আরও বৈচিত্র্যময় ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সংগীত, খেলাধুলা, লোকজ সংস্কৃতি ও ভ্রমণের সমন্বয়ে উৎসবটি পর্যটকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্র।

কার্নিভাল মূলত আনন্দ-উৎসব ও বিনোদনকেন্দ্রিক আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গান, নাচ, মুখোশ, বর্ণিল পোশাক, শোভাযাত্রা ও নানা ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে কার্নিভাল উদ্‌যাপন করা হয়। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর কার্নিভাল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। তবে কুয়াকাটার বীচ কার্নিভালের মূল লক্ষ্য পর্যটক আকৃষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটনসম্ভাবনাকে তুলে ধরা।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দুই দিনের এই আয়োজন ঘিরে কুয়াকাটায় পর্যটকের সমাগম বাড়বে। একই সঙ্গে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে উপকৃত হবেন পর্যটননির্ভর এলাকার মানুষ। সাগরকন্যার বালুকাবেলায় উৎসবের এই আয়োজন কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পকে আরও গতিশীল করতে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।