পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানুষের আর্থিক সংকট ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে রমরমা হয়ে উঠেছে সুদের কারবার। আশ্বিন-কার্তিক মাসে কৃষিকাজে আয় কমে যাওয়া এবং সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েন উপকূলের অনেক মানুষ। এ সময় সংসার চালানোসহ নানা প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে টাকা নিচ্ছেন তাঁরা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির সুদ ব্যবসায়ী চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের কারবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুদ ব্যবসায়ীরা প্রতি ১০০ টাকায় মাসিক ৩ থেকে ৫ টাকা, এমনকি কোথাও কোথাও ৭ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ দৈনিক, কেউ মাসিক ভিত্তিতে সুদের টাকা বিনিয়োগ করেন। এসব ব্যবসায়ীর কেউ দোকান খুলে প্রকাশ্যে, আবার কেউ বাসাবাড়িতে গোপনে এ কারবার পরিচালনা করছেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি ও নারীও রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, এসব সুদ ব্যবসায়ীর কারও কারও লাইসেন্স থাকলেও অধিকাংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। ফলে অনুমোদনহীনভাবে আর্থিক লেনদেন এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেকে ব্যবসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে সুদে টাকা নিয়ে পরে লোকসানের মুখে পড়ছেন। আবার কেউ কেউ স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা নিলেও সুদের বোঝা বাড়তে থাকায় তা আর ছাড়িয়ে নিতে পারছেন না। সময়মতো সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে সুদ ব্যবসায়ীদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কলাপাড়া পৌর শহরসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সুদ ব্যবসায়ীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি। তবে এ সংখ্যা নিয়ে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় মৌসুমি কর্মসংকট, বিকল্প আয়ের অভাব এবং সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতা মানুষকে অনানুষ্ঠানিক ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সুযোগে চড়া সুদের কারবার বিস্তার লাভ করলে দরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এ অবস্থায় সুদের কারবারের প্রকৃত চিত্র অনুসন্ধান, অননুমোদিত আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসহায় মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, উপকূলের মানুষের মৌসুমি সংকটকে পুঁজি করে ঋণের ফাঁদ বিস্তার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

