আগামী ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর খুলনার দাকোপ ও বাগেরহাটের মোংলা সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উপকূলজুড়ে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন বার্তা পৌঁছানোর পর থেকেই যেন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে অবহেলিত এই জনপদ। যে দিগরাজ থেকে মোংলা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল, সেই ভাঙাচোরা রাস্তাটি এখন মাত্র কয়েকদিনেই নতুন রূপ পাচ্ছে। রাস্তায় পিচ ঢালাই, কার্পেটিং ও সংস্কারের কাজ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলছে। একই সাথে দাকোপ উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে, যা চোখে পড়ার মতো।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডের কাজ গত ১৯ অক্টোবরের মধ্যেই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সভা মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিদিন এলাকা পরিদর্শন করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর সারাদিন খুলনা ও বাগেরহাট জেলা সফর করবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী সকালে তেজগাঁও থেকে হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা। পরে হেলিকপ্টার থেকে সুন্দরবন ও মোংলা এলাকা আকাশপথে পর্যবেক্ষণ। তারপর সকাল সাড়ে ১০ টায় দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ ও পথসভায় যোগদান। সেখান থেকেই তিনি উপকূলের মানুষের জন্য বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নলিয়ান থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং দুপুর ১২ টায় মোংলা জেটিতে উপস্থিতি ও জয়মনিরঘোলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন। সেখান থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন, গ্যাস টার্মিনাল, সড়ক যোগাযোগ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শন শেষে মোংলা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সফরটি হবে সম্পূর্ণ সরকারি সফর। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ তাঁর সফরসঙ্গী হবেন।
এ বিষয়ে দাকোপ ও মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বয় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমাদের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে সভাস্থল, রাস্তা সংস্কার ও নিরাপত্তা সবকিছুই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী আসছেন শুনেই বছরের পর বছর পড়ে থাকা রাস্তা মেরামত হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে সুপেয় পানির সংকট, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং সুন্দরবন সুরক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ আসবে এমনটাই প্রত্যাশা উপকূলবাসীর।

