সুপ্রভাত ঢাকা

মোরেলগঞ্জে জিপিএফের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মোরেলগঞ্জে জিপিএফের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মোরেলগঞ্জে জিপিএফের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে জিপিএফের ভুয়া অগ্রিম বিল তৈরি ও অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার পর এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সম্প্রতি হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ) ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয় থেকে পৃথক আদেশে ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া ছয়জন হলেন— মোরেলগঞ্জের সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মীর এনামুল হক, সৌমেন সরকার, মদন কুমার দাস ও হাসানুজ্জামান এবং অডিটর শ্যামল কুমার দাস ও রুবেল মোল্লা।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা অনলাইন সিস্টেমে নিজেদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া জিপিএফ অগ্রিম বিল তৈরি ও অনুমোদন করেন। এসব বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন হিসাবে অর্থ লেনদেন দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

তদন্ত অনুযায়ী, মীর এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অডিটর শ্যামল কুমার দাস ৬৫টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা, অডিটর রুবেল মোল্লা ১২টি বিলে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা, সৌমেন সরকার ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, মদন কুমার দাস ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং হাসানুজ্জামান ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণের আবেদন করার পর। হিসাব যাচাই করতে গিয়ে তারা দেখতে পান, তাদের অজান্তেই জিপিএফ হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এরপর মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী জিপিএফ হিসাব যাচাইয়ের জন্য খুলনার বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে চিঠি দেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিশেষ তদন্তে অনলাইন সিস্টেমে ভুয়া জিপিএফ অগ্রিম বিল তৈরি ও অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সাবেক চার উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ জালিয়াতির সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রশাসনিক আদেশ জারি করে ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রশাসনিক আদেশে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তের সময় অভিযুক্তরা বিধি অনুযায়ী কেবল খোরাকি ভাতা পাবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা নির্ধারিত স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন না। জনস্বার্থে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে ছয়জনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগরে চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।